চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি টার্মিনাল পরিচালনার পাশাপাশি আধুনিকায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করবে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকায় চুক্তি সই হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তি অনুযায়ী, এনসিটির ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে মাশুল আদায় করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্দর কর্তৃপক্ষকে এককালীন অর্থের পাশাপাশি কনটেইনারপ্রতি নির্ধারিত মাশুল বা রাজস্বের অংশ দেবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে টার্মিনালটি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার টার্মিনাল। এটি ২০০৭ সালে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়। টার্মিনালটিতে পাঁচটি জেটি ও বন্দরের ১৮টি কুইসাইড গ্যান্ট্রি ক্রেনের মধ্যে ১৪টি রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের ৪০ শতাংশের বেশি এই টার্মিনালের মাধ্যমে হয়ে থাকে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বন্দরের দক্ষতা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার সূচনা হবে।
তিনি জানান, চুক্তি সইয়ের পর আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ড কার্যক্রম শুরু করবে। এটি সরাসরি বন্দর ইজারা দেওয়ার বিষয় নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দুই পক্ষের সম্মতিতে ভবিষ্যতে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
বর্তমানে এনসিটিতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলেও আশ্বস্ত করেন নৌপরিবহনমন্ত্রী। তার ভাষ্য, বিদ্যমান কর্মীরা নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
চুক্তির আওতায় ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালের আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতির উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করবে। সরকারের প্রত্যাশা, এর ফলে জাহাজ ও কনটেইনারের অবস্থানকাল কমবে, পরিচালন দক্ষতা বাড়বে এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে লজিস্টিক ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে।
নৌপরিবহনমন্ত্রী আরও জানান, চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ৬০০ কোটি টাকা পেয়েছে।
উল্লেখ্য, এনসিটি পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগ কয়েক বছর ধরে চলছিল। ২০২৩ সালে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিয়ে প্রক্রিয়াটি এগোলেও বিভিন্ন কারণে তা চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আবারও আলোচনা ও প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে চুক্তি সই করা হলো।

