সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা

নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া খাতুন, ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, এক মামা ও এক চাচা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিবারের সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

আবরারের বাবা তাঁর ছেলে হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকরের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালত স্বাধীনভাবে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

আবরারের বাবা কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবিও জানান। তাঁর ভাষ্য, ওই এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার করেন। প্রধানমন্ত্রী সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এটি আবরার ফাহাদের নামে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া আবরারের কবর পাকাকরণ এবং পাশের মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়ে সহযোগিতা চান তাঁর বাবা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী মসজিদটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।

সাক্ষাতে আবরার হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়টিও তুলে ধরেন তাঁর বাবা। কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আসামির বিষয়ে পরিবারকে প্রায় ছয় মাস পর জানানো হয়েছিল বলেও তিনি জানান। পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

আবরারের মা রোকেয়া খাতুন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কোনো মায়ের সন্তান যেন আর এভাবে নিহত না হয়।

আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রধানমন্ত্রীকে বুয়েট ক্যাম্পাসে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে বুয়েটে আবরার ফাহাদের নামে একটি নতুন হল নির্মাণের দাবি করেন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা বলেন। পাঠ্যবইয়ে আবরারের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানান ফাইয়াজ।

এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে নিহত ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরির দাবি জানান তিনি। জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাক্ষাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ওই রায় বহাল রাখেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন