বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে শিক্ষাব্যবস্থার ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারে নানা প্রতিবন্ধকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার ও বুধবারের বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ১০৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আলজাজিরা ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বেলজিয়ামের সংবাদ সংস্থা বেলগার বরাতে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ জনকে প্রশাসনিকভাবে আটক এবং ২৭ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিক্ষোভের সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালান এবং আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশটির ফরাসিভাষী শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। শিক্ষার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, পাঠদানের সময়সূচি নিয়ে জটিলতা এবং শিক্ষা উপকরণ সংগ্রহে প্রতিবন্ধকতার কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আমেলিয়া দি সালভে। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন দেখলাম, বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না, তখন আমরা আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিই।’ প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভও তাদের আন্দোলনে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে বলে জানান তিনি।
একই বয়সী আরেক শিক্ষার্থী আলফ্রেড রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সমর্থন করছি, কারণ আমাদের সমস্যাগুলো প্রায় একই রকম।’
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। বিক্ষোভের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাচল ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগেভাগে বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং লিয়েজের প্রধান রেলস্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
লিয়েজের মেয়র উইলি দেমেয়ার বেলজিয়ামের সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএকে বলেন, ‘আলোচনার সুযোগ রয়েছে।’ তরুণেরা যেন শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরতে পারেন এবং তাদের উদ্বেগগুলো যথাসম্ভব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়, সে আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা দেশটির ভাষাভিত্তিক সম্প্রদায়গুলোর অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে দেশটিতে একক কোনো জাতীয় শিক্ষাক্রম নেই। ফরাসিভাষী অঞ্চলে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষাব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে এর আগেও বিক্ষোভ হয়েছে।

