সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বকে পথ দেখাতে পারে বাংলাদেশ: ড. তিতুমীর

নিউজ ডেস্ক

বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বিচ্ছিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিবর্তে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ ও করের আওতা সম্প্রসারণের সঙ্গে সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

করোনা মহামারি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছিলেন বলে তাঁর উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিরা বাদ পড়া এবং অযোগ্যদের সুবিধা পাওয়ার মতো সমস্যা রয়েছে। এ কারণে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি সহায়তাকে কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসী আয় ও তৈরি পোশাকশিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং পোশাকশিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ পরিবারের আয় ও জীবনমান উন্নয়নে অবদান রেখেছে। এ অভিজ্ঞতা দারিদ্র্য বিমোচনে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। উপস্থাপনায় উদ্ধৃত প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী ১ কোটি ৬১ লাখে পৌঁছাতে পারে এবং এতে দারিদ্র্যের হার ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক কার্ড কর্মসূচির ফলে একই সময়ের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ও প্রকৃত জিডিপি ০ দশমিক ৭ থেকে ১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন এবং পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রার কথাও তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় তিনি ছয়টি প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন তহবিল, খাদ্য ও সারের সরবরাহ নিশ্চিতে গ্যারান্টি ব্যবস্থা, সংকটকালে ঋণ পরিশোধ স্থগিত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অব্যবহৃত বিশেষ উত্তোলন অধিকার (এসডিআর) পুনর্বণ্টন, জলবায়ু অর্থায়নে ভারসাম্য এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য জোরদার। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে অক্সফামের উপস্থাপিত নীতিপত্রে এশিয়ায় আয় ও সম্পদবৈষম্য, সামাজিক সুরক্ষার ঘাটতি এবং সরকারি সেবায় অসম প্রবেশাধিকারের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ১০ শতাংশ মানুষের হাতে জাতীয় আয়ের ৬০ থেকে ৭৭ শতাংশ কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে, এ অঞ্চলের প্রায় ২১০ কোটি মানুষ কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় নেই।

নীতিপত্রে আরও বলা হয়, এশিয়ার ৩৭টি অর্থনীতিতে জিডিপির তুলনায় গড় কর-রাজস্বের অনুপাত ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে ওইসিডি সদস্য দেশগুলোতে তা ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ধনীদের সম্পদের ওপর বছরে ২ থেকে ৫ শতাংশ কর আরোপ করা হলে এশিয়ায় ৭৯ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও প্রাক্কলন করা হয়।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের অধ্যাপক কেট পিকেট।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন