রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ভোট চুরির অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি?

নিউজ ডেস্ক

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়ম ও কথিত ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বৈঠক করেছে বিরোধীদের জোট ‘ইন্ডিয়া’। বৈঠক শেষে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ রাষ্ট্রপতি সরাসরি নাকচ করেননি; বরং এ বিষয়ে প্রমাণ চেয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্যকে ভুল বলে দাবি করেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাষ্ট্রপতি ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠক শেষে রাহুল গান্ধী বলেন, নির্বাচনে কীভাবে কারচুপি হয়েছে, তার প্রমাণ বিরোধীদের কাছে রয়েছে এবং গোটা দেশ তা দেখেছে। রাষ্ট্রপতি অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার না করায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন বলেও জানান।

তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে বৈঠকের আলোচনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র রাহুলের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, রাষ্ট্রপতিকে এ বিতর্কের মধ্যে টেনে আনা দুর্ভাগ্যজনক।

বৈঠক শেষে রাহুল জানান, আগামী সোমবার বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। সেখানে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের উদ্দেশে মিছিল করেন। পরে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিসহ নির্বাচনী সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে।

বিরোধীদের চার দফা দাবি

রাষ্ট্রপতির কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে চারটি প্রধান দাবি জানিয়েছে ‘ইন্ডিয়া’ জোট।

প্রথমত, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ২০২৩ সালের সেই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিরোধীরা, যে আইনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের দায়মুক্তির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত এবং তালিকা থেকে বাদ পড়া ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে।

তৃতীয়ত, সব নির্বাচনে কাগজের ব্যালট ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী জোট। চতুর্থত, গত দুই বছরে যেসব বিধানসভা নির্বাচনে ভোট চুরির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে বলে তারা দাবি করছে, সেসব নির্বাচন বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।

‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে যখন ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়, তখন অন্য বিরোধী নেতারা কর্তব্যপথে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ সময় তাঁদের হাতে ‘জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ!’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা নির্বাচন কমিশন ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের মধ্যে যোগসাজশের অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনসহ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ঘটনায় স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও তাঁরা মনে করেন।

রাষ্ট্রপতি ভবনকে রাজনীতিতে টানার অভিযোগ বিজেপির

বিরোধীদের কর্মসূচির সমালোচনা করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী অভিযোগ করেন, কংগ্রেস রাষ্ট্রপতির দপ্তরকে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে টেনে এনেছে।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং ভিত্তিহীন বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়াই কংগ্রেসের উদ্দেশ্য।

এভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোট ও বিজেপির মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও রাষ্ট্রপতি বৈঠকে তাদের অভিযোগ গ্রহণ করেছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন