ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা ইসরায়েলের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান। তাঁর মতে, খামেনিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের জাতীয় স্বার্থ অর্জিত হয়নি; বরং তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ায় ইরানের নেতৃত্ব আরও কট্টরপন্থি হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রিশন লেৎসিওনে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন গোলান। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।
গোলান বলেন, ‘আমার মনে হয়, মোজতবা খামেনির বাবাকে হত্যা করা নিঃসন্দেহে একটি ভুল ছিল।’
খামেনি হত্যার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিষয়টি এমন নয় যে খামেনি মৃত্যুর যোগ্য ছিলেন না; বরং তাঁকে হত্যা করা ইসরায়েল রাষ্ট্রের স্বার্থ পূরণ করেনি। গোলানের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা একজন প্রবীণ নেতার ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে কিছু সুবিধা থাকে। খামেনির বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে গোলান বলেন, এখন ইসরায়েলকে আরও কট্টরপন্থি ও সহিংস ব্যক্তিদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সামগ্রিক ফলাফল নিয়েও সমালোচনা করেন ইসরায়েলের এই বিরোধী নেতা। তাঁর মতে, যুদ্ধের পর ইসরায়েল আগের চেয়ে খারাপ কৌশলগত পরিস্থিতিতে পড়েছে।
এর জন্য প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধের লক্ষ্য নির্ধারণকে দায়ী করেন গোলান। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন, তা ছিল অবাস্তব। সেই লক্ষ্য ব্যর্থ হয়েছে এবং কখনোই অর্জিত হয়নি।
গোলানের এই বক্তব্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কৌশল ও তার ফলাফল নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে সামনে এনেছে। বিশেষ করে খামেনি হত্যার পর ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং সরকার উৎখাতের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া নিয়ে দেশটির বিরোধী শিবির থেকে প্রশ্ন উঠেছে।

