রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এবার আরেক মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে গেলেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন

নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. এ. এস. মো. মাহবুবুল আলমের একটি অনুষ্ঠানে বারবার ঘুমিয়ে পড়ার অভিযোগ ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এর আগে প্রশাসনিক বৈঠকে মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে তাঁকে ধমক খেতে হয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। পরপর এসব ঘটনা সামনে আসায় তাঁর দায়িত্ব পালন ও জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কয়েকজন।

বিএনপির প্রয়াত নেতা সাদেক হোসেন খোকার সাবেক এপিএস মনিরুল ইসলাম শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সিভিল সার্জনের অনুষ্ঠানে ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। পোস্টে তিনি বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকা এই কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি জানান।

মনিরুল ইসলাম জানান, বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ‘আমাদের গ্রাম ক্যানসার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্যানসার স্ক্রিনিং ও মূল্যায়ন সেবা’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সমাজসেবা বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মনিরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যানসার বিষয়ে চিকিৎসকদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপস্থাপনা চলার সময় সামনের সারিতে বসা সিভিল সার্জনকে বারবার ঘুমিয়ে পড়তে দেখা যায়। এ ঘটনা দেখে তিনি ফেসবুক পোস্টে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পোস্টে মনিরুল ইসলাম আরও দাবি করেন, জেলার হাসপাতালগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি সিভিল সার্জনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁর পরিবর্তে একজন কর্মোদ্যমী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সিভিল সার্জনের শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর মন্তব্যের পক্ষে কোনো চিকিৎসাগত তথ্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

ভুয়া চিকিৎসককে ঘিরেও অভিযোগ

সিভিল সার্জন মাহবুবুল আলমকে ঘিরে বাগেরহাটে আরও কিছু বিতর্ক রয়েছে। সম্প্রতি কালবেলা, ডিবিসি নিউজ ও যমুনা টেলিভিশনের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মাহমুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া এমবিবিএস পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

ওই ব্যক্তিকে রোগী দেখার সুযোগ করে দেওয়া এবং তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে। প্রতিবেদনগুলোতে কামরুজ্জামান শিমুল নামের স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনের পর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো এবং তাঁদের চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি বাগেরহাট ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপের সর্বশেষ অবস্থা এবং সিভিল সার্জনের বক্তব্য জানা যায়নি।

পরপর এসব ঘটনা সামনে আসায় বাগেরহাটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহি, হাসপাতালগুলোর সেবার মান এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ফলাফলই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন