নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় গোরখা জেলায় আকস্মিক বন্যায় আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে বুধি গণ্ডকি নদীতে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে বাড়িঘর, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যায় চুমনুব্রি ও ধারচে গ্রামীণ পৌরসভা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কয়েকটি জনবসতি প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় আরও অনেক বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানান, বন্যার পানিতে চুমনুব্রি-৩ এলাকার ন্যকচেট ও ফিলিম বাজারের মধ্যে সংযোগকারী একটি সেতু ভেসে গেছে। এতে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা, ত্রাণ বিতরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা অংশ নিচ্ছেন।
গোরখা জেলার প্রধান কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিউরিবাস এলাকার ওপরের দিকে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল। তবে ওই ভূমিধসের সঙ্গে বন্যার সম্পর্ক এবং দুর্যোগের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানার চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করছে স্থানীয় প্রশাসন। ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
নদীর পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

