রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নাগরিক হিসেবে সবার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা আমার কর্তব্য: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং নাগরিক হিসেবে দেশের প্রত্যেক মানুষের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তারা। এ সময় ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা তাকে পূজার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে যেসব কাজ করা সম্ভব হয়েছে, সরকার তা করেছে। আরও কিছু বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসব কার্যক্রম থেকেই সরকারের সদিচ্ছার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।

তিনি বলেন, জাতির সংকটময় মুহূর্তে যখন ধর্মীয় পরিচয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তখন অন্য ক্ষেত্রেও ধর্মকে আলাদা করে দেখার কারণ নেই। সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, তার মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না।

নিজের দায়িত্ব ও অবস্থান ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, আল্লাহ তাকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় পরিচয় নয়, মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে নিজের ক্ষমতার মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, সরকারপ্রধান হিসেবে তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করাই তার কর্তব্য। প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি—সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান নেতারা।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন