রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সৌদি-কাতারের সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে বৈঠক

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বৈঠকগুলোতে গ্যাস অনুসন্ধান, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং জ্বালানি সরবরাহের উৎস ও রুট বহুমুখী করার বিষয়ও উঠে আসে।

রোববার (১২ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শনিবার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ফাঁকে এসব দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি এবং কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন বাংলাদেশের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী। এ ছাড়া এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি এ ধরনের হামলার নিন্দা জানান।

এ সময় বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতি সংহতির কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তার বিষয়েও সৌদি প্রতিনিধিকে অবহিত করেন তিনি। পাশাপাশি হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। জবাবে সৌদি মন্ত্রী বলেন, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সব সময় সৌদি সরকারের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’

বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে সৌদি সরকারের চলমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সৌদি আরবের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা নিয়ে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে মতবিনিময় এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন বাংলাদেশের প্রতিমন্ত্রী।

এ ছাড়া বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা দেওয়া, স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং সমুদ্র ও স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা

কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা, বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা এবং নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

কাতার এনার্জির আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও থেকে বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ এবং সরবরাহের উৎস ও রুট বহুমুখী করার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে উভয় পক্ষ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আগ্রহ এসিডব্লিউএ পাওয়ারের

দিনের তৃতীয় বৈঠকে এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সামির জে. সেরহানের সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে এসিডব্লিউএ পাওয়ার। দেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন