রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে ইরান, মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-কাতার

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ইরান। ওয়াশিংটনের পাঠানো প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে যেকোনো আলোচনার আগে ইরানের নির্ধারিত পূর্বশর্ত মেনে নিতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

বাকাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনার বিষয়ে আমেরিকানদের প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছি। যেকোনো আলোচনার ক্ষেত্রে ইরানের পূর্বশর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে।’

ইরানের পরমাণু ইস্যুতে রাশিয়ার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বাকাই। তাঁর ভাষ্য, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে মস্কোর সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতায় ইরানের পরমাণু ইস্যুতে রাশিয়া এখনো গঠনমূলক ভূমিকা রাখছে। ইরান ও রাশিয়ার সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে তিনি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সহযোগিতামূলক উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সরাসরি মধ্যস্থতার দায়িত্ব পাকিস্তান ও কাতার পালন করছে বলে জোর দেন বাকাই। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মাধ্যমে কারিগরি ও সুনির্দিষ্ট পর্যায়ে মধ্যস্থতার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করল তেহরান

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রণালীতে যেসব ঘটনা ঘটছে, তা ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রত্যক্ষ ফল।

বাকাই বলেন, আলোচনায় নিজেদের দর-কষাকষির অবস্থান শক্তিশালী করতে ইরান হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান মনোভাব ও কর্মকৌশল অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা ফিরে আসবে না।

ইরান তার কৌশলগত সুবিধা বা দর-কষাকষির ক্ষমতা হারিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিও নাকচ করেন তিনি। বাকাই বলেন, ওয়াশিংটন দাবি করতে পারে যে তেহরান তার সুবিধাজনক অবস্থান হারিয়েছে, কিন্তু ইরান নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবির বিপরীতে জ্বালানি বাজারে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না।

সৌদি আরব-হুতিদের সংলাপে সহায়তা করতে প্রস্তুত ইরান

এদিকে আরব উপদ্বীপে চলমান উত্তেজনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংলাপ আয়োজনে সহায়তা করতেও তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি।

বাকাই বলেন, দুটি ইসলামি দেশের মধ্যে যুদ্ধ ও বৈরিতা অব্যাহত থাকুক, তা ইরান চায় না। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করতে ইরান বারবার সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পর্যালোচনা, পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগের মধ্য দিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে তেহরান। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা কতটা এগোবে, তা নির্ভর করছে ইরানের পূর্বশর্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থানের ওপর।

 

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন