নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করতে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে চার কোটি পরিবারের তথ্য নিয়ে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরি করা হবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে ডেটাবেজ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, ১২ অক্টোবর থেকে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন প্রশিক্ষিত তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড পেতে সাধারণ মানুষকে কোনো সরকারি দপ্তর বা ব্যক্তির পেছনে ঘুরতে হবে না। তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি প্রতিটি পরিবারের কাছে যাবেন। বৈজ্ঞানিক প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এ পদ্ধতিতে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি কিংবা অনিয়মের সুযোগ থাকবে না। প্রাথমিকভাবে সাড়ে চার কোটি পরিবারের তথ্য থেকে পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২ কোটি ১০ লাখ অতিদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে ভাতা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪১ লাখ নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে এ ভাতার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে যোগ্য সব পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি ভাতা প্রদানের জন্য বরাদ্দ রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ডের নিরাপত্তা ও অর্থ উত্তোলনের সুবিধা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, কার্ডে ডুয়েল চিপ, কিউআর কোড এবং নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। এটি সরকারের ‘টাকা পে’ পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ফলে সুবিধাভোগীরা যেকোনো ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পিওএস মেশিন কিংবা বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে নিজেদের সুবিধামতো ভাতা তুলতে পারবেন।
তথ্য সংগ্রহ ও উপকারভোগী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কোনো যোগ্য পরিবার বাদ পড়লে বা তথ্য নিয়ে আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ‘সেবা কেন্দ্র’ থেকে অনলাইন ও অফলাইনে অভিযোগ এবং আপিল করার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আইবাস পদ্ধতির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করে নিয়মিত গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।

