রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

নিউজ ডেস্ক

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় এজলাসে নেওয়া হয় তাদের।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি দেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে যেসব অভিযোগ

তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও দাবি করা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে তারা জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামে একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন এবং পরে ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করেন। তদন্তে তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করেছে পুলিশ।

যে পাঁচ কারণে রিমান্ড আবেদন

তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—

১. মামলার অন্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা।

২. কথিত রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা।

৩. ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা।

৪. আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সন্ধান পাওয়া।

৫. মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং অভিযোগে উল্লেখিত পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা।

যেভাবে গ্রেপ্তার

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।

মামলার অভিযোগ ও রিমান্ড আবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো তদন্তাধীন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন