সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল-গ্যাস স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান। তিনি বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাগুলো গুরুতর হওয়ায় সৌদি আরবের প্রতিক্রিয়াও কঠোর হতে হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন। এর আগের দিন বিমানবন্দরের আরেকটি টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, পশ্চিম ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, রোববার ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি বাড়িতে সৌদি বিমান হামলায় এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
রিয়াদে বিশ্ব পেট্রোলিয়াম কাউন্সিলের (ডব্লিউপিসি) জ্বালানি সম্মেলনে সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেশটির অবকাঠামো, প্রতিষ্ঠান, জনগণ এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেয়া দাবি করেছেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের দুটি তেল-গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইয়েমেনে গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের ১২৪টি বিমান হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সতর্ক করেন তিনি।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরের বছর দেশটির সরকারকে পুনর্বহালের লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সাম্প্রতিক হামলা দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

