যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনায় সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চাওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই বিনা চ্যালেঞ্জে পার পেতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, জাতীয় পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) ক্ষেত্রে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকা দলটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত অনুতাপের লক্ষণ দেখা যায়নি; বরং বিভিন্নভাবে সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে।
ড. ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রের দায়িত্ব নেওয়াই ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের আপত্তির একটি কারণ বলে মনে হচ্ছে। শুধু সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের আচরণের চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রকাশ্যে সহিংসতা ও সন্ত্রাসে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ থাকা একটি দলের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রশ্নে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। তার মতে, পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকেই অনুতাপ ও দায়িত্ব স্বীকারের উদ্যোগ আসা প্রয়োজন ছিল।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমা চাওয়া বা অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে হুমকি দেওয়া এবং সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্তার চেষ্টার ঘটনাগুলোকে কোনো সাধারণ চাপ সৃষ্টির কৌশল নয়, বরং ‘আওয়ামী সন্ত্রাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। এসব ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তথ্য উপদেষ্টা।
জেএফকে বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে কয়েকজন ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন।
ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলতে শোনা যায়। এ সময় তারা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন এবং পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও স্লোগান দেন।
পরে সঙ্গে থাকা এক সহযোগীর সহায়তায় সামনের দিকে এগিয়ে যান ড. ইউনূস।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হলেও, এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি ও গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়নি।

