রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস আলোচনায় তিস্তা, বাণিজ্য ও রোহিঙ্গা ইস্যু

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, তিস্তা প্রকল্প, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ও উঠে এসেছে দুই পক্ষের বৈঠকে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার (Sjoerd Sjoerdsma) নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার উপযুক্ত সময় এসেছে। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তায় আগ্রহ নেদারল্যান্ডসের

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই বদ্বীপ রাষ্ট্র। তাই অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, চর উন্নয়ন এবং পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম নদীব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকতে দেশটির সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও জানতে চান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। এ সময় বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক পরিকল্পনার প্রশংসা করেন তিনি।

কৃষি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডস। দেশটির অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ জানায়, এ সংকটের মূল উৎস মিয়ানমারে এবং এর টেকসই সমাধানও সেখানেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

এ লক্ষ্য অর্জনে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারের প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশের গণতন্ত্র সুসংহত করা ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তাঁর সরকার দেশে মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুসংহত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তাঁর দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন