রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে অর্থায়নের প্রচলিত কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে সার্বভৌম ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, তা কমিয়ে মালিকানাভিত্তিক বা ইকুইটি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।’

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার পাশাপাশি সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে কোন কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ করা হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা নতুন কাঠামো কবে থেকে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্থিক সহায়তা ও অনুদান চেয়েছে বাংলাদেশ

এদিকে, একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক আর্থিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে কী পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে কিংবা কী ধরনের অনুদান পাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি অর্থমন্ত্রী।

কৃষি খাতে ইফাদের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্পের ধরন কিংবা অর্থায়নের কাঠামো সম্পর্কে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইফাদের সঙ্গে এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে ঋণনির্ভরতা কমানো, বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কৃষি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন