রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দুপুরে হাসিনার খরচ ছিল সাড়ে ১০ লাখ, তারেক রহমান খান ১৫০ টাকা: চিফ হুইপ

নিউজ ডেস্ক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময় তাঁর কার্যালয়ে দুপুরের খাবারের পেছনে প্রতিদিন সাড়ে ১০ লাখ টাকা ব্যয় হতো বলে দাবি করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মণি। তাঁর দাবি, এ হিসাবে বছরে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৫০ টাকায় দুপুরের খাবার খান বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে আট দিনের সফরে বরগুনায় গিয়ে সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।

নূরুল ইসলাম মণি বলেন, তারেক রহমানের জীবনযাপন সাধারণ। কিছুদিন আগে তাঁর সঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, খাবারের তালিকায় ছিল ডেরস ভাজি, কুমড়া ভর্তা ও ডাল।

তিনি বলেন, তারেক রহমান আগে বলেছেন, ‘দেশের একটা পয়সাও আমার হাত দিয়ে নষ্ট হবে না, আমি যতদিন আছি।’

‘কর্মীদের পাশে থাকতে হবে সংসদ সদস্যদের’

চিফ হুইপ বলেন, তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কঠোরভাবে বলেছেন, তাঁরা যেন কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চলেন এবং তাঁদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে কর্মীদের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন বলে জানান নূরুল ইসলাম মণি।

তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা সম্মানিত হয়েছেন, কিন্তু কর্মীদের পাশে না থাকলে তাঁদের নিয়ে পথ চলা সম্ভব নয়। কর্মীদের দেখভালের দায়িত্বও তাঁদের নিতে হবে।

চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। এমন ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করেছেন।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বহিষ্কারের প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, শুধু বহিষ্কারই গুরুত্বপূর্ণ নয়; পরবর্তী সময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়াও জরুরি। এ ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে না

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে চিফ হুইপ বলেন, জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে এবং দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। ধানের শীষ, নৌকা কিংবা অন্য কোনো প্রতীক ছাড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য, দলীয় প্রতীককে কেন্দ্র করে সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। তাই উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রতীকবিহীন নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির বাইরের কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি নির্বাচিত হলেও যাতে বাধা সৃষ্টি না হয়, সেটিও এ ব্যবস্থার উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।

অতীতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য

দেশের অতীত ও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার সময় দেশে খাদ্যসংকট ছিল। তাঁর দাবি, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তিন বছরের মধ্যে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানিও করেছিল।

অন্যদিকে গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণতন্ত্রের উন্নয়ন ও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

চিফ হুইপ বলেন, ঐতিহাসিকভাবে দেশের সংকটময় সময়ে বিএনপিকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বর্তমান সরকারও সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন