জনগণের কল্যাণে কার্যকর নীতি প্রণয়নে সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-সুপারিশ গ্রহণে সরকার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, সরকার এমন নীতি প্রণয়ন করতে চায়, যা দেশের মানুষের প্রকৃত কল্যাণে কাজে আসবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘প্যারিস থেকে আন্তালিয়া: প্রকৃতির জন্য জলবায়ু অর্থায়নের পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ এ সংলাপের আয়োজন করে।
গত তিন দশকে বৈশ্বিক জলবায়ু কার্যক্রমের ধীরগতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দূষণকারী ক্ষতিপূরণ দেবে’—এমন নীতিসহ জলবায়ু আলোচনার মৌলিক অনেক বিষয় এখনো বিশ্বজুড়ে অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
জাতিসংঘে ৩৫ বছর আগে পরিবেশবিষয়ক দেওয়া নিজের একটি ভাষণের স্মৃতিচারণ করে ড. মঈন খান বলেন, সে সময় পরিবেশ নিয়ে যেসব শঙ্কা ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়েছিল, আজও সেগুলো পুনর্ব্যক্ত করতে হচ্ছে। তাঁর মতে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলো ঐতিহাসিক দায়ভার গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক পরিবেশ ক্রমেই সংকটের মুখে পড়ছে।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জনপ্রতিনিধিদের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষ তাৎক্ষণিকভাবে অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও শিল্পের উন্নয়ন দেখতে চায়। অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের স্বল্পমেয়াদি এসব প্রত্যাশার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত স্থায়িত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জনগণের প্রতি উন্মুক্ত মনোভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ থেকে দেশের মানুষের শেখার আছে।
জলবায়ু অর্থায়ন ও জাতীয় ঋণ প্রসঙ্গে ড. মঈন খান বলেন, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঋণগ্রস্ত দরিদ্র দেশের তালিকায় পড়েনি। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখার পেছনে দেশের শক্তিশালী অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ভূমিকা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মোট অর্থনীতির আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এই খাতের আওতাভুক্ত, যা কোটি কোটি মানুষের জীবিকা টিকিয়ে রেখেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির পুনর্গঠনের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, সঠিক খাতে বিনিয়োগ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হতে পারে।
জলবায়ু আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় সংগঠনগুলোর প্রতি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রচারণা যেন শুধু তারকা হোটেলের বলরুমে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে সরাসরি পৌঁছে জলবায়ুবিষয়ক সচেতনতা ও কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে।

