রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিদ্যুৎ খাতে অর্থায়ন বাড়াতে চীনা ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র সম্প্রসারণ, স্মার্ট গ্রিড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নির্মাণ এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) নেটওয়ার্ক উন্নয়নে দ্রুত অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প, সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে পাওয়ার গ্রিড নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অন্যান্য প্রকল্পেও চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি। এ লক্ষ্য অর্জনে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরবর্তী ধাপ সম্প্রসারণ, জাতীয় গ্রিডের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আধুনিকায়ন, স্মার্ট গ্রিড নির্মাণ এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণে দ্রুত অর্থায়ন প্রয়োজন।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি ২০২৬-এর আওতায় বাংলাদেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশে এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো পরিদর্শনের জন্য ব্যাংকটির প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানান।

জবাবে এক্সিম ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ওয়াং চুনইং বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সবুজ জ্বালানি খাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক বিনিয়োগবান্ধব শুল্ক ও কর কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

ওয়াং চুনইং ভূমিভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে অর্থায়ন ও কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিক গ্রিড শক্তিশালীকরণ এবং ডিপিডিসির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়ন অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক ও স্থিতিশীল করতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বৈঠকে অংশ নেওয়া দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন