রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বিএনপিবিরোধী অবস্থান নিয়ে জামায়াতের কোলে ওঠার পরিণতি আছে: মাহফুজ আলম

নিউজ ডেস্ক

বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের (জাশি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পরিণতি সেকুলার সমাজ ও ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজকে ভোগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘জুলাই পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্ট্যাটাসে মাহফুজ আলম দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই সেকুলার সিভিল সোসাইটি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত-শিবির এবং তার ভাষায় ‘৭২ আদার্স’-এর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দেখা গেছে। ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা এবং সংস্কারের নামে বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য, বিএনপিকে নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক রুচির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মনে করেন—এমন কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীও এ অবস্থান নিয়েছেন। একবার জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর অনেকে সেই অবস্থান থেকে বের হতে পারছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।

ডিজিটাল মব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার প্রসঙ্গ তুলে মাহফুজ আলম লেখেন, এসব তৎপরতার চাপে অনেককে ডানপন্থা থেকে উগ্র ডানপন্থার দিকে যেতে দেখেছেন তিনি। তার মতে, ডিজিটাল মবের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিত প্রচারণা ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করে।

মাহফুজ আলমের ভাষ্য, বাংলাদেশ ক্রমেই ডানপন্থী রাজনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ধারার ডানপন্থী গোষ্ঠী সম্মিলিতভাবে এ প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার স্বার্থে সংস্কারের নামে বিএনপির বিরোধিতা করতে গিয়ে জামায়াত-শিবিরের কাছে যাওয়ার পরিণতি সেকুলার সমাজকে ভোগ করতে হবে। একইভাবে জামায়াত-শিবিরকে সহযোগিতা করার জন্য ঐতিহ্যবাহী আলেম সমাজকেও মূল্য দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার দাবি, এ রাজনৈতিক সমীকরণে শেষ পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরই লাভবান হবে; অন্য গোষ্ঠীগুলোকে পরে দূরে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাহফুজ আলম জামায়াত-শিবিরের জন্য ‘সুসময়’ আসার কথা উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়লে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসবে।

তিনি বিএনপির ভেতরে দুই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন—একাংশ জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক পরিসরে এবং অন্য অংশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিসরে অবস্থান করতে পারে বলে মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে অন্য গোষ্ঠীগুলোকে জামায়াত-শিবিরের প্রভাবিত সাংস্কৃতিক বিতর্কে ব্যস্ত না থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মাহফুজ আলমের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও আশঙ্কা হিসেবে এসেছে। স্ট্যাটাসে উত্থাপিত দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন