রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের আগের প্রস্তাব থেকে সরে এলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা বিশ্ববাসীর জন্য বড় সতর্কবার্তা হতে পারত। এতে মানুষ দেখতে পেত, নিদাল হাসানের মতো সন্ত্রাসী ও গুরুতর অপরাধীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে আচরণ করে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, অনেক ভালো ও সদিচ্ছাসম্পন্ন মানুষ আছেন, যারা সরাসরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে চান না। তাই নির্ধারিত পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলেও তা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর হামলায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা সরাসরি উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর দেখতে পারবেন।

নিদাল হাসান যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা এবং আরও ৩২ জনকে আহত করেন তিনি। এ ঘটনায় ২০১৩ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার এ ঘোষণার পর রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সমালোচনা দেখা দেয়। এর পরই সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত জানান ট্রাম্প।

হেগসেথ বলেছিলেন, সেনাসদস্যদের একটি দল গুলি চালিয়ে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে এবং মানুষ যাতে সেই দৃশ্য দেখতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। তবে এ ধরনের সম্প্রচার আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

সপ্তাহান্তে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। তার ভাষ্য, এক পক্ষ মনে করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখানো উচিত নয়। অন্য পক্ষের মতে, এমন দৃশ্য দেখানো হলে ভবিষ্যতে অন্যরা এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে পারে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সম্প্রচারের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান এই নেতা চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এ ধরনের ভিডিও ভবিষ্যতে উগ্রপন্থীরা নিজেদের প্রচারের কাজে ব্যবহার করতে পারে।

জনসন বলেন, সম্প্রচারের সম্ভাব্য প্রভাব সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এমন দৃশ্য দেখতে চান না বলেও জানান। পাশাপাশি এ প্রস্তাব নিয়ে তার দলের অন্য আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ হোয়াইট হাউসকে জানানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ইতিহাসও এ আলোচনায় উঠে এসেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ১৯৬১ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে জন বেনেট নামের এক সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল। অস্ট্রিয়ায় ১১ বছর বয়সী এক মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার এ দণ্ড কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীতে সর্বশেষ গুলি চালিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল ১৯৪৫ সালে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দায়িত্ব ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার দায়ে সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত সেনাসদস্য এডি স্লোভিকের মৃত্যুদণ্ড তখন গুলি চালিয়ে কার্যকর করা হয়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন