রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা সাংবিধানিক দায়িত্ব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা এলেই বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা উঠতে হওয়াকে জাতীয় জীবনের জন্য দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সংবিধান সব ধর্মের মানুষের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কারও ভোটব্যাংক হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সব নাগরিক সমান অধিকারের অধিকারী। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার অধিকার দিয়েছে। ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা যাবে না। এরপরও পূজার সময় নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা করতে হওয়া দুঃখজনক।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশেই কোনো না কোনো ধর্মের মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর সহাবস্থান রয়েছে। নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার স্বীকৃত। বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারও সুরক্ষিত থাকা উচিত।

অতীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়েছেন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোন সময়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে, তা নাগরিক হিসেবে তাঁদের নিজেদেরই বিচার করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দলের ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই তাঁদের।

সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস, রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি পারস্পরিক সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের হৃদয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা সবার দায়িত্ব।

সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছরগুলোতেও দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব মানুষ স্বাধীনভাবে ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সরকার সব সময় সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।

বনানী পূজামণ্ডপের আয়োজনের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও নকশা ব্যবহার করে মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে, যা প্রশংসনীয়। এ সময় তিনি আয়োজকদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সারা দেশে ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনায় সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

আইজিপি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের পরও পূজার আয়োজন নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে একটি পক্ষের অভিযোগ দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে যারা সুযোগ নিতে চায়, তারা এমন চেষ্টা করতে পারে। তবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন