কৃষ্ণসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন দ্বিগুণ করে ২০২৭ সালে দৈনিক ২ কোটি ঘনমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রথম ভাসমান গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্ল্যাটফর্ম ‘ওসমান গাজি’ চালুর মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জনের পথে এগোচ্ছে আঙ্কারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফিলিওস বন্দর থেকে প্ল্যাটফর্মটি কৃষ্ণসাগরে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেন, এই উদ্যোগ দেশটির জ্বালানি ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
‘ওসমান গাজি’ প্ল্যাটফর্মে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য ২১টি ইউনিট রয়েছে। সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রের কূপ থেকে উত্তোলিত প্রাকৃতিক গ্যাস এ প্ল্যাটফর্মে প্রক্রিয়াজাত করা হবে। পরে সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে তা ফিলিওসে পাঠানো হবে।
তুরস্কের জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী আলপারস্লান বায়রাকতার বলেন, ‘ওসমান গাজি’ দেশটির প্রথম ভাসমান প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ স্থাপনা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সাকারিয়া গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস জ্বালানোর টাওয়ার চালুর লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান তুর্কি পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের দৈনিক তেল উত্তোলন ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
কৃষ্ণসাগরের গ্যাসসম্পদ কাজে লাগিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুরস্ক এ উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে স্থানীয় গ্যাসের অবদান আরও বাড়বে।

