রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি, পোশাক ও চুলের স্টাইল অনুসরণ: ইসলাম কী বলে?

নিউজ ডেস্ক

খেলাধুলা বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। তবে প্রিয় দল বা খেলোয়াড়কে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ কখনো কখনো সীমা ছাড়িয়ে যায়। ফুটবলকে কেন্দ্র করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী খেলোয়াড়দের প্রতি ভালোবাসা, উন্মাদনা, এমনকি সংঘর্ষের ঘটনাও দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে মুসলিমদের জন্য অমুসলিম দল বা খেলোয়াড়কে সমর্থন করার বিধান কী—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুরের শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মুফতি ও মুহাদ্দিস মোহাম্মদ আমীর হোসাইন তাঁর ধর্মীয় ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, খেলাধুলার সঙ্গে জুয়া যুক্ত থাকলে তা ইসলামে নিষিদ্ধ। জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়ে পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আমীর হোসাইন বলেন, কোনো ব্যক্তি হারাম কাজে অংশ নিলে বা সেই কাজকে সমর্থন করলে বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, জুয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা, সংশ্লিষ্টদের জয়-পরাজয় নিয়ে অতিরিক্ত উল্লাস বা হতাশা প্রকাশ করা এবং সেই কাজে উৎসাহ দেওয়া অনুচিত।

এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সুরা আল-মায়িদাহর ৫১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন। আয়াতটিতে মুমিনদের ইহুদি ও খ্রিস্টানদের অভিভাবক বা মিত্র হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি অমুসলিমদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ, তাঁদের প্রতিকৃতি কিনে সম্মান দেখানো, তাঁদের পোশাক পরা কিংবা তাঁদের অনুকরণে চুল কাটার মতো বিষয়গুলোকেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া তিনি ‘যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত’—হাদিসটির উদ্ধৃতি দেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিচয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অনুকরণ থেকে মুসলিমদের বিরত থাকা উচিত।

মুফতি আমীর হোসাইন আরও বলেন, কোনো হারাম কাজকে হারাম বলে মনে না করাও ধর্মীয়ভাবে গুরুতর বিষয়। তাঁর মতে, জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক বিনোদন হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা নিয়ে মুসলিমদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তবে খেলাধুলার সাধারণ সমর্থন, কোনো খেলোয়াড়ের দক্ষতার প্রশংসা এবং জুয়ায় অংশগ্রহণ বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরোধী কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করা—বিষয়গুলো এক নয়। এ ধরনের বিষয়ে ইসলামী বিধান জানতে হলে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

উল্লেখ্য, অমুসলিম খেলোয়াড় বা দলকে সমর্থন করলেই কারও ঈমান নষ্ট হয়ে যায়—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে ধর্মীয় বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও নির্ভরযোগ্য আলেমদের ব্যাখ্যা বিবেচনা করা জরুরি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন