জনবল সংকট মোকাবিলা, আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বাড়ানো এবং জননিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশে নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। তবে প্রস্তাবিত পদগুলো এখনো প্রশাসনিক অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে; নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রস্তাবগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মাধ্যমে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেশে পুলিশের জনবলে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে পুলিশের অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮ জন। পুলিশবহির্ভূত পদসহ মোট অনুমোদিত জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি।
অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে ক্রমবর্ধমান জননিরাপত্তার চাহিদা পূরণ করা কঠিন। মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। জননিরাপত্তা ও সেবার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশের পুলিশে জনবল বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে রয়েছে ১০ হাজার কনস্টেবল ও ৪ হাজার উপপরিদর্শক (এসআই)। এসব পদের প্রস্তাব সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ছাড়া ৪০০টি সার্জেন্ট ও ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদ সৃষ্টির প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্পসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য আরও ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিকালীন ৪০:১ অনুপাতের মানদণ্ড এবং বিভিন্ন দেশের পুলিশ-জনসংখ্যার অনুপাত তুলে ধরে বাংলাদেশের জনবল ঘাটতির বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত পদগুলো অনুমোদিত হলেও পুলিশের বিদ্যমান জনবল ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। প্রশাসনিক অনুমোদন ও পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর সরকারের এ উদ্যোগের বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।

