রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাই বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাভার সেনানিবাসে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

নিজের সেনা পরিবারের পরিচয় তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সেনা পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর হাতে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে সদস্যরা নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পতাকার মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে এ বাহিনীর সুনাম ও পেশাদার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে ‘উই রিভোল্ট’ উচ্চারণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম ঘোষণা দেন এবং পরদিন ২৭ মার্চ পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাটি পাঠ করেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় বাংলাদেশের মানুষ সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো গৌরব ও সাফল্যকে গোটা দেশের সাফল্য হিসেবেই বিবেচনা করে।

আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ

বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুদ্ধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

দেশের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা অনুযায়ী ‘ওয়ান র‍্যাংক, ওয়ান পেনশন’ নীতি বাস্তবায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় আত্মমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।

সাত সেনা ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান

অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন, সন্ত্রাস দমন ও শান্তিরক্ষা মিশনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সেনাবাহিনীর সাতটি ইউনিটকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেন তিনি।

এ বছর সম্মানজনক এ স্বীকৃতি পেয়েছে ৭ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট।

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন