শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পূজামণ্ডপ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের নিরাপত্তায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার সদস্য, সাড়ে ৫০০ পিকআপ ও সাড়ে ৪০০ মোটরসাইকেল নিয়ে টহল দিচ্ছে বাহিনীটি। পাশাপাশি জোরদার করা হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ ও সাইবার মনিটরিং।
রোববার বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব তথ্য জানান এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে প্রায় ৩২ হাজার ৯৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।
এসআরবি মহাপরিচালক জানান, গত ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় বাহিনীর ১৫টি ব্যাটালিয়নের ছয় হাজারের বেশি সদস্য দেশজুড়ে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কে নিয়মিত টহলও জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবির ডগ স্কোয়াড ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ ও স্থানে তল্লাশি চালাচ্ছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ ফোর্স টিম। প্রতিমা বিসর্জনের দিনও বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।
স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পূজা উদ্যাপন কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এসআরবি সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে ঢাকাসহ সারা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপগুলো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে।
এসআরবি মহাপরিচালক বলেন, পূজামণ্ডপ এলাকায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ ও সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত দুর্গাপূজা ঘিরে নাশকতা বা উগ্রবাদী হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য নাশকতা মোকাবিলায় বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভার্চুয়াল জগতে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতেও ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে এসআরবির সাইবার মনিটরিং টিম। বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
মো. আহসান হাবীব পলাশ জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন। পাশাপাশি পূজামণ্ডপে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর কার্যকারিতা নিয়মিত যাচাই করা হচ্ছে। নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইভটিজিং ও হয়রানি প্রতিরোধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিজয়া দশমীতে প্রতিমা পরিবহন ও বিসর্জন ঘিরেও বিশেষ নিরাপত্তা থাকবে বলে জানান এসআরবি মহাপরিচালক। এ উপলক্ষে নির্ধারিত রুটে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিসর্জনস্থলে দায়িত্ব পালন করবেন এসআরবি সদস্যরা।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন বাহিনীর সদস্যরা। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভক্তদের নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিগত বছরগুলোর মতো এবারও সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এসআরবি মহাপরিচালক।

