রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল ইতালিও, ১৪১ পুলিশ সদস্য আহত-গ্রেফতার ১৯৭

নিউজ ডেস্ক

প্রতিবেশী দেশ ফ্রান্সের মতো বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ইতালি। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

শনিবারের তুলনায় রোববার (১৮ অক্টোবর) বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করে। ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

মিলানে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের দিকে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করে ধ্বংস করা হয়।

বিক্ষোভে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে ক্ষতির পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ মার্কিন ডলার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া মলোটভ ককটেল বা পেট্রোলবোমা বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়েছে।

বোলোনিয়ায় রেলস্টেশনের কাছে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য হলেও পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও অস্থিরতার নিন্দা জানিয়েছেন। বিক্ষোভকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতালির তরুণ-তরুণীদের দূরে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তাঁর দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব পুনরায় উত্থাপন করবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি পূরণের নিশ্চয়তা হিসেবে আয়োজকদের আর্থিক জামানত দিতে হতে পারে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের নামে সহিংসতার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন