জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান, আইনি সুরক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে দুই দেশের মধ্যে ১০ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘ইএসডিপি-এমওসি’ নামে এই চুক্তির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার হবে বলে আশা করছে সরকার।
গত ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়। প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টার পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের উদ্যোগে এ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পরদিন সোমবারও মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব। জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। ফলে সব মিলিয়ে চুক্তিটির মেয়াদ হবে ১০ বছর।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চ বেতন এবং দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন। কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যতামূলক বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির কপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
সরকার আশা করছে, চুক্তিটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পথ আরও সুগম হবে।

