রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সরকার চায় ঐক্য, কিন্তু একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি : প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

সরকার যখন দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা দেশের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি। এখন একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর স্টেশন রোড এলাকায় অবস্থিত ঐতিহাসিক ধর্মসভা বা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তারা যেন সংসদে এসে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য শুনতে সরকার আগ্রহী। জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রস্তাব থাকলে তা গ্রহণ করতেও সরকার প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসাই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে চান তিনি এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করতে চাই। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা কাজ করছি। নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে আমি আবারও দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণ

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। সবার ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। এখন সরকার একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়।

নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনে বিএনপি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। কোনো অঞ্চলে দলটি জয়ী হয়েছে, আবার কোনো অঞ্চলে হয়নি। তবে সরকার মনে করে, দেশের সব মানুষের প্রতি তার দায়িত্ব রয়েছে। তাই সব অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ

রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলাকার অবকাঠামো এবং সড়ক উন্নয়নে জেলা পরিষদের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলের উন্নয়ন অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় সুষমভাবে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মন্দির উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদান

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছান। সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ তাকে শুভেচ্ছা জানান।

মন্দির পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এর উন্নয়নের জন্য ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক দেন। পাশাপাশি মন্দিরের দরিদ্র ও মেধাবী সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ছয়তলা ভবন নির্মাণে সহায়তার আশ্বাস দেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি নিপুণ রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর সাহেব আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন