রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদন

নিউজ ডেস্ক

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীলতা এসেছে বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা, মতপ্রকাশ এবং জনপরিসরে আলোচনার সুযোগ বেড়েছে। তবে দুর্নীতি, পুলিশের জবাবদিহি ও অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তন পর্যালোচনায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিম (সিপিআইটি) একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করে।

এ মিশনের অংশ হিসেবে সিপিআইটির তিন কর্মকর্তা গত ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। এ সময় তাঁরা বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেন।

প্রতিবেদনের নির্বাহী সারাংশে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতিশীলতা আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীরা আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা, মতপ্রকাশ এবং জনপরিসরে বিতর্কে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিরোধী গোষ্ঠী সভা-সমাবেশ, প্রচার এবং সরকারের সমালোচনা করতে পারছে। বিভিন্ন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ছিল। নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সহিংসতাও কমেছে।

তবে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ, সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটছে বলে এতে বলা হয়।

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দলটির সাবেক নেতা-কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ঘিরে ওঠা অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সাধারণ আদালতে এসব মামলা পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি জামিনে মুক্তি পেলেও অন্যরা বিচারাধীন অবস্থায় আটক রয়েছেন।

অন্যদিকে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অনেককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বহু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার কাজও চলছে।

রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অগ্রগতির পাশাপাশি দুর্নীতি, পুলিশের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি এবং গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী ব্যাপক সংস্কার বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে প্রতিবেদনটি বিভিন্ন পক্ষের সাক্ষাৎকারের নোট ও সংগৃহীত তথ্যের সংকলন। এতে অন্তর্ভুক্ত সব বক্তব্যকে যুক্তরাজ্য সরকারের নিজস্বভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়ে প্রতিবেদনেই সতর্ক করা হয়েছে।

সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন