রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে আমরা সবাই বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, বাংলাদেশের সব মানুষের পরিচয় একটাই—বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সমান মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জে. এম. সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান—কোনো সংগ্রামেই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধের সময় লাখো মানুষ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন এবং অনেকে শহীদ হয়েছেন। তখন কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—তা দেখা হয়নি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জনগণের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজপথে নেমেছেন। এসব আন্দোলনেও আন্দোলনকারীদের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন জেলায় রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে।

তারেক রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় কেউ গুলিবিদ্ধ বা আহত হলে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাওয়া হয়নি। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, আর চিকিৎসকেরাও চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করেননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকট ও সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে মানুষের পরিচয় ছিল একটাই—তাঁরা বাংলাদেশের মানুষ। তাই ধর্মীয় বিভাজনের পরিবর্তে জাতীয় পরিচয় ও পারস্পরিক ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেশ গড়ার ওপর জোর দেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন