আসন্ন শীতে আফগানিস্তানে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। অর্থায়নের ঘাটতি, খাদ্যসহায়তা কমে যাওয়া এবং পুষ্টিসেবা ব্যাহত হওয়ায় দেশটির ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুদের পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এ আশঙ্কার কথা জানায়। জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটির আফগানিস্তানবিষয়ক মুখপাত্র ওলগা চেরেভকো বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে দেশটির প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ মানুষ সংকটজনক বা তার চেয়ে গুরুতর পর্যায়ের খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছে। অর্থাৎ, আফগানিস্তানের প্রায় প্রতি তিনজনের একজন এই সংকটের মধ্যে রয়েছে।
চেরেভকো জানান, চলতি শীতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটের জরুরি পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য খাদ্য জোগাড় করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
শিশুদের অপুষ্টি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী ৪০ লাখের বেশি শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। তাদের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।
অর্থায়ন কমে যাওয়ায় আফগানিস্তানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পুষ্টিসেবা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে অথবা কার্যক্রম স্থগিত করেছে। চেরেভকো সতর্ক করে বলেন, এসব সেবা বন্ধ হয়ে গেলে তার পরিণতি অপূরণীয় হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
জাতিসংঘের মতে, অর্থায়নের সংকট দেশটিতে খাদ্যসহায়তা ও পুষ্টিসেবা কার্যক্রম পরিচালনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীত ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো এবং অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

