রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দ্বিতীয় দফায় ইউরেনিয়াম সরবরাহ

নিউজ ডেস্ক

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাশিয়া থেকে আনা অতিরিক্ত পারমাণবিক জ্বালানি ‘ফ্রেশ নিউক্লিয়ার ফুয়েল’ বহনকারী গাড়িবহরটি কেন্দ্রে পৌঁছায়। এর আগে গত ৩ অক্টোবর প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে ২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে জ্বালানিটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

এদিকে, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) ইউনিটটিতে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রটিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির পারমাণবিক চুল্লি ব্যবহার করা হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল বাংলাদেশে আনা হবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের প্রথম ও বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর কেন্দ্র পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত। ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পটি বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন পাওয়ায় আগামী নভেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কেন্দ্রটি উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যাওয়ায় ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রটির প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে এই মেয়াদ আরও ২০ থেকে ৩০ বছর বাড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন