রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তল্লাশির ক্ষমতা পাচ্ছে প্রতিযোগিতা কমিশন

নিউজ ডেস্ক

বাজারে কারসাজি, যোগসাজশ করে পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রমাণ সংগ্রহে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। এ জন্য ‘বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন আইন, ২০১২’ সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সংশোধিত আইনের খসড়াটি প্রকাশ করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত চাওয়া হয়েছে। খসড়ার ওপর এক মাস পর্যন্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত বিধানগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

খসড়ায় আইনের ৮ ধারায় ‘তল্লাশি ও জব্দ’ শিরোনামে নতুন উপধারা যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কমিশনের কাজে অসহযোগিতা করলে বা বাধা সৃষ্টি করলে কমিশনের লিখিত আদেশপ্রাপ্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালাতে পারবেন।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, তল্লাশির সময় প্রয়োজনীয় হিসাবের খাতা, বইপত্র, কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক তথ্য-উপাত্ত, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি বা বস্তু জব্দ করা যাবে। জব্দ করা সামগ্রী নির্ধারিত সময়ের জন্য কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। প্রয়োজনে কমিশনের নির্দেশে সেগুলো ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ থাকবে। তল্লাশি ও জব্দ কার্যক্রমের সময় অন্তত দুজন সাক্ষীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তদন্তের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য এ ক্ষমতা প্রয়োজন। বাজারে যোগসাজশের মাধ্যমে দাম বাড়ানো, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানকে বাজারে প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতিযোগিতা ব্যাহত করার মতো কর্মকাণ্ডের প্রমাণ সংগ্রহেও প্রস্তাবিত বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আইনের ১২(১) ধারায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে কমিশনে সরকারের নিয়োগ করা একজন সচিবের পদ রাখার বিধান রয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় ওই পদের পরিবর্তে একজন নির্বাহী পরিচালক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

দরপত্র জালিয়াতি প্রতিরোধেও আইনে নতুন বিধান যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খসড়ায় প্রতারণামূলকভাবে দর নির্ধারণ করে বাজারে প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাব রয়েছে।

এ ছাড়া কমিশনের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের বিধানেও পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, কমিশনের আদেশে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। প্রশাসনিক ও আর্থিক জরিমানার বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে জরিমানার ২৫ শতাংশ কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। আপিল পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধানও রাখা হয়েছে।

বর্তমান আইনের ৩৭(২) ধারায় সরকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত গণ্য করার বিধান রয়েছে। সংশোধিত খসড়ায় এই বিধান বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের যুক্তি, সরকারের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত বিবেচনার বিধান সংস্থাটির বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে।

আইনটি যুগোপযোগী করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অংশীজনদের মতামত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত হলে কমিশনের তদন্ত ও আইন প্রয়োগের ক্ষমতায় পরিবর্তন আসতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন