ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভারতের মুসলিমরাও দেশটির নাগরিক। তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
স্ট্যাটাসে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, আসামে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে বাঙালি মুসলিমদের ১১০০টির বেশি ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১০টির বেশি মসজিদও ধ্বংস করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া মসজিদগুলোর কয়েকটি ৫০ বছরেরও বেশি পুরোনো।
সরকারি ও বনভূমি থেকে কথিত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের যুক্তি দেখানো হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবারের ওই অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বসবাসের ইতিহাস রয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উল্লেখ করেন নাহিদ। তাঁর দাবি, এসব পরিবারের কেউ কেউ ভারতের স্বাধীনতার আগেও ওই এলাকায় বসবাস করতেন।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করেই তাঁদের গৃহহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়কের মতে, আসামের এই উচ্ছেদ অভিযান ভারতে বাঙালি মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির প্রভাবে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত এক দশকে ভারতে প্রায় ১৯ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বছরের পর বছর ধরে ভারতের বাঙালি মুসলিমরা দমন-পীড়ন, জোরপূর্বক সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা তাঁদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।
আসামের উচ্ছেদ অভিযানের সঙ্গে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনার তুলনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই ঘটনা ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের স্থায়ী প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধীনে ভারত মুসলিম, খ্রিষ্টান ও শিখসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নিম্নবর্ণের হিন্দুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে মুসলিমদের নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভারত সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতি, ধর্ম কিংবা সাংস্কৃতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের মুসলিমরাও ভারতীয়।’

