রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পর্যটন, বাণিজ্য ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা ঘিরে আজ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর

নিউজ ডেস্ক

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ, পর্যটনশিল্প, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখতে আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এ সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্প বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে হিরণ পয়েন্ট ও সুন্দরবন পর্যবেক্ষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পরে মোংলা বন্দরে গিয়ে নির্ধারিত সভায় অংশ নেওয়া এবং বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কথা রয়েছে।

সফরে দাকোপ এলাকায় প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটন ও স্থানীয় জীবিকার ক্ষেত্রেও বনটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে মোংলা বন্দরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বন্দরের অবকাঠামো ও পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগের কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ বাড়তে পারে।

সফরে প্রস্তাবিত বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনও গুরুত্ব পাচ্ছে। অঞ্চলটি বাস্তবায়িত হলে শিল্পকারখানা স্থাপন, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা এবং সহায়ক ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব সুফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর।

প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হতে পারে। তবে এ প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে দাকোপের নলিয়ান এলাকায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয় মাঠসহ সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে।

খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার নলিয়ানে আসছেন। এটি সরকারি সফর; সেখানে স্থানীয় কোনো কর্মসূচি নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রস্তুতি নিয়েছেন। এলাকার মানুষ তাঁকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন বলেও জানান তিনি।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে নলিয়ান স্কুল মাঠে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে স্পিডবোটে আকরাম পয়েন্টে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে দাকোপে প্রধানমন্ত্রীর কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।

এদিকে আগামী ৫ নভেম্বর আবারও খুলনায় আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ওই দিন জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর।

সুন্দরবন, মোংলা বন্দর ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল—এই তিন ক্ষেত্রকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের সম্ভাবনা দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সংশ্লিষ্ট এলাকা ও অবকাঠামো পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও কার্যকর অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বয়ে খুলনা-মোংলা অঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আরও বিকশিত হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন