রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরান সীমান্তের কাছ থেকে পিছু হটল ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান

নিউজ ডেস্ক

সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরান সীমান্তের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও ফিরে এসেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। ইরানের সামরিক বাহিনীকে গুলি চালাতে প্ররোচিত করে নতুন করে হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২১ অক্টোবর) মার্কিন সূত্রের বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য উদ্ধৃত করে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। বিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর দেশটির ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই ফিরে যায়।

মার্কিন সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে অভিযানটি পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানের প্রতিক্রিয়াকে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতো বলে সূত্রগুলো ধারণা করেছে। তবে এ উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অভিযানটিকে ইরানকে সতর্ক করা এবং নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের সামরিক তৎপরতা ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এতে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

মার্কিন সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযান পরিচালনার আগে ওয়াশিংটনকে বিষয়টি অবহিত করেছিল ইসরায়েল। তাদের জানানো হয়েছিল, সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং ইরানকে হামলা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে এ মহড়া চালানো হচ্ছে। ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইসরায়েলি বিমানগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারবে, সে বিষয়েও ইসরায়েল অবগত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অভিযান এমন সময়ে পরিচালিত হয়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েল সফর করছিলেন। সফরে তিনি ওভদা বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনার খবর

এদিকে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে বড় ধরনের নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।

পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে কয়েক দিনব্যাপী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাগুলো প্রাথমিকভাবে ১০ অক্টোবর চালানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে আপত্তি জানান। ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ায় তিনি পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আবারও সংঘাতের আশঙ্কা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালির চলাচল সীমিত করে দেয়। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের অভিযান এবং নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ইরানকে পাল্টা হামলায় প্ররোচিত করার সম্ভাবনার বিষয়টি মার্কিন সূত্রের মূল্যায়ন; এটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার মতো স্বাধীন প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।

 

সূত্র: মিডিল ইস্ট মনিটর, আনাদোলু এজেন্সি

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন