বিরোধী দলকে সংসদে ও সংসদের বাইরে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম বিরোধী দলকে অন্তত ‘চকলেট’ দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধী দল বলেছে, তারা চকলেট পাচ্ছে আর সরকারি দল পাচ্ছে বিরিয়ানি। এর জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বিরোধী দল চকলেট পাচ্ছে। অতীতে বিএনপি বিরোধী দলে থাকার সময় বসার জায়গাটুকুও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার কী খাচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা না করে বিরোধী দল যে চকলেট পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, এতে বোঝা যায়, বিরোধী দলের কম-বেশি হলেও মূল্যায়ন হচ্ছে এবং সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের সময় বেহেশতের কথা বলে ভোট চাওয়া হয়েছে। দুর্গাপূজার সময় জামায়াত নেতাদের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এবার তাঁদের কোনো পূজামণ্ডপে দেখা যায়নি। এ ধরনের রাজনীতি বন্ধ করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্যের ভাষা নিয়েও আপত্তি জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাক্স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি বক্তব্যে শালীনতা থাকা প্রয়োজন। জাতীয় নেতাদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য অব্যাহত থাকলে তা দেশের মানুষ ও ভোটাররা ভালোভাবে নেবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, দলটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করে। ধর্ম বা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ইচ্ছা বিএনপির নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এবং দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি রাজনীতি করতে চায়।
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের কর্মসূচির সমালোচনা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত। কিন্তু সংসদের বাইরে ‘তেল দে, গ্যাস দে, নইলে গদি ছেড়ে দে’ স্লোগানে লংমার্চ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তেল ও গ্যাসের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। সামনে ঢাকা-খুলনা লংমার্চের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কর্মসূচির পরিবর্তে আগামী ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে বিরোধী দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়েও সংসদে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। বিরোধী দলের যেসব বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার রয়েছে, সেগুলো সংসদে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
পরে মীর শাহে আলম শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্বাচিত শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

