রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

অরুণাচল সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা, তোপের মুখে মোদী সরকার

নিউজ ডেস্ক

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে চীনা সেনাদের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের খবর সামনে এসেছে। চীনা সেনারা প্রচলিত টহলপথ থেকে সরে এলে সীমান্তে মাঝেমধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিষয়টি নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানে চীনা সেনাদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের কথা জানান ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ কাপুর। তাঁর বক্তব্যের পর সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চায় কংগ্রেস।

দলটির অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল দিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে চীন। তবে ঠিক কোন কোন স্থানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে ভারত সরকার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

টাকসিং এলাকায় কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা

অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার টাকসিং এলাকায় কয়েক মাস ধরেই ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে ওই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সেনাবাহিনীর কোর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের কিবিথু সেক্টরের ওয়াচা-দামাই সীমান্ত বৈঠকস্থলে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনায় সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের পরও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি বলে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে ওই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভারতীয় সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে।

চীনের টহল নিয়ে নয়াদিল্লির বক্তব্য

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলপথ থেকে সরে গেলে ভারত-চীন সীমান্তে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

তিনি জানান, সীমান্তের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে দুই দেশ বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আরও ভালো বোঝাপড়া তৈরির বিষয়েও আলোচনা চলছে।

জয়সওয়াল বলেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য জরুরি।

তবে অরুণাচল প্রদেশের সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানের সুনির্দিষ্ট স্থান ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোদী-অমিত শাহের কাছে কংগ্রেসের জবাব দাবি

আইটিবিপি প্রধানের বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কংগ্রেস। দলটি জানতে চেয়েছে, চীন অরুণাচল প্রদেশের কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাদের টহল দিতে বাধা দিচ্ছে কি না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কংগ্রেস বলেছে, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এবার অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে উদ্বেগজনক খবর সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে দ্রুত ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।

২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। ওই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে। এরপর সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে একাধিক দফায় সামরিক ও কূটনৈতিক আলোচনা হয়েছে।

সাম্প্রতিক অরুণাচল পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ায় সীমান্তে টহল, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ব্যবস্থাপনা এবং সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন