রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন হচ্ছে : আইজিপি

নিউজ ডেস্ক

চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পুলিশকে মামলা ও ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাস দমনে যৌথ অভিযান চলছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে কমিউনিটি পুলিশিংবিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশের কার্যক্রমের কারণে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। সেই জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় পুলিশকে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে কাজ করতেই তিনি খুলনায় এসেছেন।

তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি দমনে যৌথ অভিযান চলছে। পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে আইনি কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলেও জানান তিনি।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, কিছু অপরাধী হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে, আবার কিছু অপরাধী অন্যদের হত্যা করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে কখনো বল প্রয়োগের দাবি, আবার কখনো বল প্রয়োগের কারণে সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে দুর্বল বলা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি তাঁরা দেখতে চান না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে পুলিশসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আইজিপি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। বর্তমান সরকার মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করেছে। সমাজ থেকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

‘পুলিশকে সহযোগিতা করুন’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলী হোসেন ফকির বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশ সর্বত্র দায়িত্ব পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বেকারত্বসহ নানা সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

জনগণকে পুলিশের কাজে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, তাঁরা মানবিক ও জনবান্ধব পুলিশ গড়ে তুলতে চান। তবে কিছু অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার পরও কয়েক দিন যেতে না যেতেই তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের অপরাধীদের কীভাবে স্থায়ীভাবে দমন করা যায়, সে বিষয়ে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে নতুন আইনের উদ্যোগ

চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাব ও পরিচয় তুলে ধরে আইজিপি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা সন্ত্রাসীদের পক্ষে চাঁদাবাজি করা হয়। এ কারণে ভয়ে অনেকে তাঁদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বা অভিযোগ করতে চান না।

তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান বিধান সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যাতে পুলিশ চাঁদাবাজির ঘটনায় মামলা করতে পারে এবং প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হচ্ছে।

আইজিপির ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন আইনের উদ্যোগ দৃশ্যমান হতে পারে। আইন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে সমাজ থেকে চাঁদাবাজি নির্মূল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন