চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বরেণ্য সাংবাদিক, কলাম লেখক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান মারা গেছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে নিজ বাসভবনে হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন তিনি। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মুহম্মদ শফিকুর রহমান ১৯৪৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা পূর্ব ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৭০ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন শফিকুর রহমান। স্বাধীনতার পর পত্রিকাটিতে পূর্ণাঙ্গ সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার ও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক থেকে অবসর নেওয়ার পর স্বাধীন কলাম লেখক হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। দৈনিক আজকের কাগজ, দৈনিক ভোরের কাগজ এবং দৈনিক জনকণকের জনপ্রিয় ‘চতুরঙ্গ’ পাতায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন। তাঁর লেখালেখি জাতীয় পর্যায়ে পাঠক ও মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ১৯৮৫ সালে জাপানের টোকিও, ১৯৯১ সালে জার্মানির বার্লিন এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও পড়াশোনা করেন তিনি।
সাংবাদিক সমাজের নেতৃত্বেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শফিকুর রহমান। ২০১৬-১৭ ও ২০১৭-১৮ মেয়াদে টানা দুইবার বাংলাদেশ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন। কর্মজীবনে বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল সিটিজেন টিভির চেয়ারম্যান ও প্রধান সম্পাদক এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন মুহম্মদ শফিকুর রহমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসন থেকে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে জয়ী হন।
২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ফরিদগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে তাঁর সংসদ সদস্য পদের অবসান ঘটে।
স্বজন ও সহকর্মীদের রেখে গেলেন
মৃত্যুকালে মুহম্মদ শফিকুর রহমান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, গুণগ্রাহী এবং রাজনীতি ও সাংবাদিকতা অঙ্গনের শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

