দেশের সব কমিউনিটি ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করে ‘ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার’ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট নিরসন, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হবে। লোকবল সংকটে বন্ধ থাকা শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবাও এক সপ্তাহের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে আকস্মিক পরিদর্শনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর আগে সকালে তিনি ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী লেবার ওয়ার্ড, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। এ সময় রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ এবং শৌচাগারের পরিচ্ছন্নতা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের ব্যবহৃত ক্যানুলা, সিরিঞ্জ ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ময়লার ভাগাড়ে পাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে চিকিৎসকদের হাজিরা রেজিস্টার পরীক্ষা করে কয়েকজনকে অনুপস্থিত দেখতে পান মন্ত্রী। পরে তিনি রেজিস্টারটি সঙ্গে নিয়ে যান।
হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে হয়েছে জানতে পেরে এর কারণ জানতে চান তিনি। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ওই রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা দেন মন্ত্রী।
এ ছাড়া হাসপাতালটিতে অগ্নিকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ জানতে চান তিনি। জবাবে ছুটির কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে বলে জানানো হয়।
ফুলপুর ও তারাকান্দায় স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পরিকল্পনা
এর আগে ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনকালে উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য উদ্যোগের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা চালু এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান এবং জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

