রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ছয়টি বিষয়ে সৌদির ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ, বিচারপ্রক্রিয়া ও দণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তাদের মরদেহের বর্তমান অবস্থান এবং বিচার চলাকালে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চেয়েছে ঢাকা।

গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশের নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে তাদের এ দণ্ড দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাংলাদেশ জানতে চেয়েছে, ওই দুই নাগরিক ঠিক কী অপরাধ করেছিলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় ও স্থান এবং তাদের গ্রেপ্তারের তারিখ কী ছিল। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কেও স্পষ্ট তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ করে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়েছে ঢাকা।

এ ছাড়া দণ্ড কার্যকরের পর দুই বাংলাদেশির মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশে পাঠানো হবে নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তারা আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সেটিও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশের মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচার চলাকালে দুই বাংলাদেশির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন কি না, সে বিষয়ে মিশন নিশ্চিত হতে পারেনি।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে দেশটিতে আটক ও দণ্ডিত বাংলাদেশি নাগরিকদের তালিকা দিয়ে থাকে। গত সেপ্টেম্বরের তালিকায় নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের নাম ছিল। সেখানে একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ওই তালিকায় তাদের শাস্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য ছিল না।

ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি বাংলাদেশ আগে থেকে জানতে পারেনি। এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের আগে তাদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে ওই দুই ব্যক্তির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের তালিকায় উল্লেখ করা অভিযোগ এবং সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বর্ণিত ঘটনার মধ্যে কী সম্পর্ক রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া, দণ্ডাদেশ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন