রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইরানের নিশানায় মার্কিন কর্মকর্তা ও নাগরিক, গোয়েন্দা সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক

মার্কিন কর্মকর্তা ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার তৎপরতা বাড়িয়েছে ইরান—এমন অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার লক্ষ্যে ইরানিদের কথিত ষড়যন্ত্র উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা একটি স্মারকলিপিতে (মেমো) এ সতর্কবার্তা দেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক জে ক্লেটন। গত ২৩ অক্টোবর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো ওই বার্তায় ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরা হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জনবল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের পর এ সতর্কবার্তা সামনে আসে।

মেমোতে ক্লেটন উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার লক্ষ্যে ইরানিদের কথিত ষড়যন্ত্রের তৎপরতা উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

মেমোটির অনুলিপি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফকেও দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

রয়টার্সকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকে জরুরি নয় এমন দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি কূটনৈতিক মিশন থেকে পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়।

এর আগে শনিবার পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্যের এক ডজনের বেশি দেশের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তালিকায় সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক ও ইসরায়েল রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সতর্কবার্তায় ইরানপন্থি হুতি বাহিনীর কাছ থেকে হুমকি বৃদ্ধির বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, দূতাবাসগুলোতে জনবল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে পাওয়া নতুন তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, হুতিদের হামলার হুমকি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইরানের কথিত সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের কয়েকটি দূতাবাসে জনবল সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘রেস্ট্রিকটেড অপারেশনস স্ট্যাটাস’ বা সীমিত কার্যক্রমের মর্যাদা ব্যবহার করছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুদ্ধটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তার স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে ইরানের কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন