সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশ গভীর সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ভিশন পিস অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার আয়োজিত ‘জাতীয় ঐক্য: সংকট উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। খবর দৈনিক সংগ্রামের।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, গত ১৬ বছর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। দল দুটির যৌথ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের মতামত যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অতীতেও এমন পরিস্থিতি রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
বক্তাদের মতে, সংবিধান সংশোধনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে রাজনৈতিক বিরোধ আরও বাড়তে পারে এবং সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকারি দল বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিএনপি সংসদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোয় সংশোধনের পক্ষে। অন্যদিকে জামায়াতসহ বিরোধী জোটের দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। এ মতপার্থক্যের কারণে বিশেষ কমিটির আলোচনায় বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ, গণভোটের রায়ের ব্যাখ্যা এবং জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নপদ্ধতি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য কমানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তাদের আশঙ্কা ও মূল্যায়ন তাঁদের নিজস্ব বক্তব্য; সংকটের সম্ভাবনা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

