রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

পে-স্কেল ও বদলিসহ ৩ দাবিতে আন্দোলনে নামছেন এমপিও শিক্ষকরা

নিউজ ডেস্ক

বদলির ফল প্রকাশ, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে আবারও আন্দোলনে নামছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নতুন করে আন্দোলন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

প্রাথমিকভাবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে শিক্ষকরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলনে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসবেন। তাঁদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই কর্মসূচির স্থান পরিবর্তন করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে আবেদনও করা হয়েছে।

দেড় মাসেও বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় ক্ষোভ

আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির ফল দ্রুত প্রকাশ করা। অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, বদলির আবেদন গ্রহণের প্রায় দেড় মাস পার হতে চললেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি।

তাঁর ভাষ্য, অনেক শিক্ষক নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে কর্মরত থাকায় পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বদলির ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা চান শিক্ষকরা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের নির্দেশনা জারির দাবিও তুলেছেন শিক্ষকনেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন পাওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কবে থেকে এ সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়সীমা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনা জারি করে অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে।

শতভাগ উৎসব ভাতার দাবি

শিক্ষকদের তৃতীয় দাবি মূল বেতনের শতভাগ হারে উৎসব ভাতা বা ঈদ বোনাস নিশ্চিত করা। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতার ব্যবধান রয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর মতে, এই ব্যবধান চাকরির সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করছে। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও মূল বেতনের শতভাগ হারে উৎসব ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বদলির ফল দ্রুত প্রকাশ, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং শতভাগ উৎসব ভাতা—এই তিন দাবিকে সামনে রেখে ৪ নভেম্বরের অবস্থান কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন