রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্বের পরীক্ষা আজ

নিউজ ডেস্ক

ইসরায়েলের মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে নেমেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলা, গাজা ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে ভোটারদের সামনে তাঁর নেতৃত্বের মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। খবর রয়টার্সের।

দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসা নেতানিয়াহু দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্কের মধ্যেও তিনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে রয়েছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রভাব এবং ইসরায়েলের বিভক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থার কারণে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও ডানপন্থী মিত্রদের সঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত আইজেনকোট ডানপন্থী ও মধ্যপন্থী—দুই রাজনৈতিক শিবিরের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রচারে গুরুত্ব

নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন নেতৃত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলেই ইরানের হুমকি ‘চূড়ান্তভাবে’ দূর করতে ট্রাম্প আবারও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

অন্যদিকে, আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘ভয় ছড়ানো, মিথ্যা ও হুমকিনির্ভর প্রচার’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ইসরায়েলের জনগণ যাঁকেই নির্বাচিত করুক, ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবেন।

সরকার গঠনে কট্টর ডানপন্থীদের ভূমিকা

নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুকে আবারও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমা কয়েকটি দেশ তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে জনমত জরিপে বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন ‘জিউইশ পাওয়ার’ পার্টির সমর্থন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কারও জন্যই ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে জোটের সমীকরণই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হতে পারে।

কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো জোট তৈরি করতে ব্যর্থ হলে আগামী বছর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

ভোটার প্রায় ৭৩ লাখ

ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৭৩ লাখ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ভোটার এবারই প্রথমবারের মতো ভোট দিচ্ছেন।

যুদ্ধ, নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব—এসব বিষয়কে ঘিরে এবারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের ফলাফল শুধু নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠন এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন