রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
Logo

হামলা না করা শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

নিউজ ডেস্ক

সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রিয়াদ—এমন দাবি করেছে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। ইরানের মধ্যস্থতায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব কিংবা নগদ অর্থ তেহরানে নিয়ে যাওয়ার দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাইমস অব ইন্ডিয়া এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্যের উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেন। একটি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, তিনি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে ১০০ কোটি ডলার অর্থ তেহরানে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে সৌদি সরকারের কোনো কর্মকর্তা অর্থ বহন বা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

তেহরানে আঞ্চলিক কূটনৈতিক আলোচনা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনীর, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার কারণে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে ইরান মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট ফলাফল কিংবা অর্থনৈতিক প্রস্তাবের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফর ছিল উত্তেজনা কমানো, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধান উৎসাহিত করা এবং কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ।

পুরোনো সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধ

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের দাবি নিশ্চিত না করলেও জানান, প্রায় তিন বছর আগে হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধই সংঘাতের অন্যতম কারণ।

ওই সমঝোতার আওতায় হুথি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সরকারি কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের হামলা বন্ধ রাখার প্রত্যাশা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে আগের অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে তারা নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে যেতে চায় না।

প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকের দাবি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় এ উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে হুথিদের হামলা বন্ধে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব, সামরিক বিমানে অর্থ পরিবহন কিংবা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে এসব দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার পরিবর্তে কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সৌদি আরব, ইরান ও হুথিদের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্যই শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটির সত্যতা ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন